ঢাকা: সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। একজনের প্রার্থিতা স্থগিত ও অন্য একজনের মনোনয়ন গ্রহণ না হওয়ায় জোটের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব বাধা পেরিয়ে তাদের প্রার্থীরা সংসদে যোগ দেবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জোটের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, তাদের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে এনসিপির মনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সময়সীমাসংক্রান্ত কাগজপত্রের জন্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র শেষ পর্যন্ত গ্রহণ না করা হয়, তবে জোট বসে থাকবে না। আমরা নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী আপিল করব এবং আইনি ব্যবস্থা নেব।’ মূলত নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না হওয়া এবং মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা ঝুলে থাকা নিয়ে জোট এখন আদালতের দ্বারস্থ হতেও প্রস্তুত।
বর্তমানে সংরক্ষিত আসনে জামায়াত জোটের জন্য ১৩টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। তবে এই দুই প্রার্থীর ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হলে জোটের আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেই শূন্য আসনটিতে উন্মুক্ত নির্বাচন হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে বিএনপি জোটের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৭-এ নিয়ে যেতে পারে।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ২৬ এপ্রিল আপিল করার সুযোগ রয়েছে, যার নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। এবং ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ হবে।