Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি মডেল হতে পারে টেকসই পুনর্গঠনের ভিত্তি: নাসীরুদ্দীন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৭ মে ২০২৬ ১৪:৩৪

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

ঢাকা: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি মডেল সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, এ ভূখণ্ডে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; বরং এটি মানুষের বিশ্বাস, নৈতিকতা, সামাজিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহমর্মিতার প্রধান কেন্দ্র।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আমাদের সমাজে যাকাত, সদকা, ফিতরা ও হিবার মতো দানের একটি বিশাল প্রবাহ থাকলেও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসংগঠিত ও স্বল্পমেয়াদী ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে দারিদ্র্য সাময়িকভাবে লাঘব হলেও টেকসই সামাজিক পরিবর্তন ঘটে না। এমতাবস্থায় সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি প্রতিটি মসজিদকে নিজ এলাকার জন্য একটি ‘কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে খাদ্য সহায়তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও জরুরি মানবিক তহবিলের সংস্থান থাকবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন মসজিদভিত্তিক ‘কর্জ-এ হাসানা’ ব্যবস্থার ওপর। তার মতে, এটি চালু করা গেলে নিম্ন আয়ের মানুষ সুদের বোঝা ছাড়াই ক্ষুদ্র পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে একজন রিকশাচালক নতুন রিকশা কেনা, একজন বিধবা ছোট ব্যবসা শুরু করা কিংবা একজন বেকার যুবক দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। এতে করে দান তখন শুধু সহানুভূতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপ নেবে। এছাড়া প্রতি জুমআকে সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা আরও বলেন, মসজিদে নিয়মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প, রক্তদাতা নেটওয়ার্ক এবং এলাকাভিত্তিক দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের ডাটাবেজ তৈরি করা গেলে সহায়তা হবে আরও কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ। শিশুদের জন্য নৈতিকতার পাঠশালা এবং যুবকদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশের কেন্দ্র হিসেবেও মসজিদ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামের ইতিহাসে মদিনার সমাজব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের তুরস্ক ও মালয়েশিয়াতেও এই মডেল সফলভাবে চলছে। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি মহল্লায় থাকা মসজিদের এই বিশাল অবকাঠামোকে সংগঠিত করতে পারলে রাষ্ট্রের ওপর চাপ কমবে এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাস পাবে। একটি সক্রিয় মসজিদ মানে শুধু একটি নামাজের জামাত নয়, বরং একটি সচেতন সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।