ঢাকা: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটাসংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আজ ২৫ জুন সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। একটি ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে মা শাহীনুর বেগম এবং তার তিন নিষ্পাপ কন্যা- ছায়মা আক্তার, ইকরা বেগম ও সিপা আক্তারকে যেভাবে নির্মম, পাশবিক ও রক্তাক্ত কায়দায় হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতার বিবেককে নাড়া দিয়েছে এবং সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন মায়ের সঙ্গে তার তিন কন্যার নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে বিদীর্ণ করেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো একটি পরিবার এক মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এমন নৃশংস ও বর্বর হত্যাকাণ্ড সভ্য সমাজে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই বিভীষিকাময় ঘটনায় পুরো রায়পুরবাসী শোকাহত, আর দেশের মানুষ গভীর বেদনা ও ক্ষোভে মুহ্যমান। নিষ্পাপ নারী ও শিশুদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা মানবিক মূল্যবোধের ওপর এক জঘন্য আঘাত।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমি নিহত শাহীনুর বেগম ও তার তিন কন্যার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাদের শহিদের মর্যাদা দান করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। একই সঙ্গে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্বজনহারাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি এই ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অন্যদিকে একই দিনে আরেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বেলা দেড়টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আরও তিন জন প্রাণ হারিয়েছেন। নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের দুই বোন ও তাদের ভাবির আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় নিহত দুলালী খাতুন, সুরভী খাতুন এবং সুমাইয়া আক্তার (আকলিমা বেগম)-এর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’