Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় নি:স্ব ঠাকুরগাঁওয়ের শত শত পরিবার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ জুন ২০২৫ ১৯:১৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঠাকুরগাঁও: অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় নি:স্ব হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের শত শত পরিবার। কেউ কেউ জুয়ার লোভে পড়ে বিক্রি করেছেন জমি-জমা। আর জুয়ারির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। সম্প্রতি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটকের পর মামলা দিয়ে হাজতে পাঠায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর সঙ্গে যুক্ত আছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও।

চটকদার বিজ্ঞাপনে সয়লাভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। অল্প পুঁজিতে কয়েকগুণ লাভ মুহূর্তেই হওয়া যাবে লাখপতি। অনলাইন জুয়ার এসব লোভনিয় ফাঁদে হরহামেসায় পাঁ দিচ্ছেন উঠতি বয়সের যুবকসহ সব বয়সের মানুষ। ঠিক এভাবেই দ্রুত টাকাওয়ালা হওয়ার ফাঁদে পাঁ দিয়ে নি:স্ব হয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের তাপসের পরিবার। সহায় সম্পদ হারিয়ে এখন কোন রকমে দিন কাটছে তার পরিবার।

বিজ্ঞাপন

তাপসের মতো অনলাইন বেটিংয়ে সব কিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন অনেকে। আবার অনেকে আত্নহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন এলাকা ছাড়া। অন্তবর্তীকালীন সরকার গত ৬ মে অনলাইনে সবধরনের জুয়া নিষিদ্ধ করলেও এর বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার মূল হোতা হিসেবে আছেন সদর উপজেলার শাপলা পিয়ালা গ্রামের বিএনপি নেতা সাইদুর রহমানের ছেলে সারোয়ার রহমান রাতুল (২২), উত্তর বোচাপুকুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে তানিম ইসলাম (২২), মাটিগাড়া সেনপাড়া গ্রামের হেমন্ত সেন (৩৩), মাটিগাড়া গ্রামের মৃত সাফিজ উদ্দীন সাফির ছেলে শাহিন আলম (২৮), আব্দুল গফুর (২৫), মন্তাজের ছেলে আলম (২৮)। মুন্সীপাড়া গ্রামের খায়রুল আলমের ছেলে মাসুদ। ছোট বালিয়া জঙ্গলীপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান,কচুবাড়ি দেবত্তর পাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান অন্যতম।

অসহাত্বের কথা জানালেন তাপসের মা। তিনি বলেন, ‘বেটা আগে খারাপ ছিল না। এখন যে এতো খারাপ হয়ে গেছে বলাই যায় না। আর সব হয়েছে অনলাইন জুয়া খেলার কারণে। ভালো পথে তাপসকে আনার অনেক চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু কোনোভাবেই ফেরাতে পারছি না।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিংপাড়া গ্রামের রোকন ইসলাম বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার কবলে পড়ে অনেকেই নি:স্ব হয়েছেন, আত্নহত্যা করেছেন, সংসারে অশান্তিতো লেগেই আছে। ঋণগ্রস্থ হয়ে অনেকে এলাকা ছাড়াও হয়েছেন। যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে। দেশের টাকা বাইরের দেশে যাচ্ছে।’

একই গ্রামের নূর ইসলাম বলেন, ‘চোখে দেখেও কিছু বলা যায় না। যদি বলা হয় তাহলে উলটো হুমকি আসে।’

সালন্দর ইউনিয়নের শামসুল ইসলাম বলেন, ‘জুয়া একটা নেশা, কেউ জিতে, কেউ হারে। প্রথমে পাঁচ হাজার ধরে ১০ হাজার পায়। ১০ হাজার ধরে ২০ হাজার পায়। ২০ হাজার ধরে ৫০ হাজার পায়। এই লোভে যখন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ধরে তখন গোটাটাই গচ্ছা যায়। পরে চালানসহ গায়েব হয়ে যায়। এই ক্যাসিনোর জন্য যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ক্যাসিনো দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত। যা দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। সরকার বড় ধরনের প্রদক্ষেপ নিলে এটা বন্ধ হবে। তা না হলে বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

বিষ্ণু রায় বলেন, ‘এই ক্যাসিনোর জন্য আমাদের পরিবারটা ধ্বংস হয়েছে। আর যেন কারো পরিবারে এমন ঘটনা না হয়।’ সেজন্য প্রশাসনকে প্রদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আউলিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘অনলাইন জুয়া শুধু এখানেই নয়, গোটা জেলায় হচ্ছে। এলাকার কতিপয় ছেলে এটা করে। সেটা কেন করে সক্রিয়ভাবে আমরা জানি না। আমারও এলাকায় কমবেশি আছে। আলোচনাটা শুধু একটা জায়গায় সীমাবদ্ধ আছে। শুধু আলিয়াপুরে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা তো গোটা বাংলাদেশে হচ্ছে। আর কোথাও শুনি না। শুধু এখানকার কথা শুনি। হয়তো কোনো ব্যক্তি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য এগুলো করছে।’

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, অনলাইন জুয়ার ফলে অনেক পরিবার নি:স্ব হচ্ছে। পারিবারিক কলহ বিবাদ বাড়ছে। আবার যারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন তারা অনেক টাকার মালিক হচ্ছেন। এই ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

সারাবাংলা/এসডব্লিউ