Friday 16 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

তেহরানে ফিরছে ইরানিরা, স্বস্তির সঙ্গে অনিশ্চয়তার ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ জুন ২০২৫ ১৬:৩৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইসরায়েলের ১২ দিনব্যাপী বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় আবারও রাজধানী তেহরানে ফিরতে শুরু করেছে বাস্তুহারা ইরানিরা। তবে তারা ফিরে পাচ্ছে এক পালটে যাওয়া শহর যেখানে এখনো বোমার শব্দের ছায়া, ধ্বংসস্তূপ এবং অনিশ্চয়তা। তেহরানে প্রবেশের মহাসড়কগুলো আবারও গাড়িতে ভরপুর।

গত ১৩ জুন শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েল তেহরানে সরাসরি হামলা চালায়, যার জেরে প্রাণ হারায় অন্তত ৬১০ জন ইরানি এবং আহত হয় ১ হাজার ৪৮১ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। রাজধানী থেকে বাস্তুচ্যুত হন লাখো মানুষ। সোমবার (২৩ জুন) যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ, যদিও অনেকে ফিরে পাচ্ছে না অক্ষত ঘর।

বিজ্ঞাপন

ঘরে ফেরার অভিজ্ঞতা নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এক ইরানি গ্রাফিক ডিজাইনার নিকা আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই এতদিন পর ঘরে ফিরে আসা, এমনকি যখন বাইরে শারীরিকভাবে নিরাপদ ছিলাম, এখন ঘরে ফিরে মনে হচ্ছে স্বর্গে ফিরলাম। কিন্তু জানি না এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা।’ তিনি ও তার স্বামী রাজধানীর ২৮৬ কিলোমিটার দূরে জানজানে আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

তেহরানে আবারও বোমা পড়বে কি না, এই আতঙ্ক অনেকের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। ২৬ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবা বলেন, ‘যুদ্ধের আগে আমি খুব ব্যস্ত জীবন যাপন করতাম। ক্লাস, চাকরি, একা বাসা চালানো সব কিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য ছিল। যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে মানতেই পারছিলাম না যে, এই রুটিন থেমে যাচ্ছে।’

অনেকে ফিরে এসে দেখছেন, তারা আর আগের মতো ঘরে ফিরছেন না। বিখ্যাত ইরানি সঙ্গীতজ্ঞ কেভান সাকেত যুদ্ধবিরতির সময় পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর কাছের একটি শহরে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় তার প্রতিবেশী ফোনে জানান যে, একটি ইসরায়েলি মিসাইল তার বাড়িতে আঘাত করেছে।

প্রথম দিকে যারা তেহরান ছেড়েছিলেন, তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল নানা সমস্যার। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে জ্বালানি সংগ্রহ ছিল কঠিন, শহর থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলো ছিল গাড়ির জটে পুরোপুরি স্তব্ধ।

যদিও অনেকে ফিরে এসেছেন, কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। ইসরায়েলের হামলা এবং আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার সর্তকবার্তা মানুষকে আবারও নতুন করে আতঙ্কে ফেলছে।

সারাবাংলা/এনজে