Sunday 31 Aug 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যে কারণে বহিষ্কার বিএনপি নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৩৩ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪৬

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে নিজ গ্রামের লোকজনকে সংগঠিত করার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চবি শিক্ষার্থীদের কুলাঙ্গার ডেকে তার দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামের বাসিন্দা সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

শনিবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ, চবি’র নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এর জের ধরে রোববার সকাল থেকে একই এলাকায় ফের উত্তেজনা এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে বিকেল পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী আহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।

এর মধ্যে দুপুরে জোবরা গ্রামের সমবেত লোকজনের মধ্যে দাঁড়িয়ে সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়ার দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি জোবরা গ্রামের লোকজনকে কঠোর আন্দোলনের আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘কুলাঙ্গার’ অভিহিত করে বলেন- এই কুলাঙ্গাররা তো ভিসিকেও মানে না।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, সাথী উদয় ‍কুসুম বড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে এর মধ্যে সংঘাতে জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যথায় তিনি গ্রামবাসীকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধের হুমকি দেন। তিনি এ সংঘাতের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেটি সম্পূর্ণ জোবরা গ্রামবাসীর বিষয় উল্লেখ করে বক্তব্য দেন।

বিএনপি নেতার এ বক্তব্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকে ফেসবুকে বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়াকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ দলের নির্দেশনা অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয় কেন্দ্র থেকে। তবে এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত কোনো অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রামবাসী ও চবি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য্য ধরে সহিংসতা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সন্তানতুল্য ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করছি এলাকাবাসীকে শান্ত রাখার চেষ্টা করার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের আরেকটু ধৈর্য্য ধারণ করানোর অনুরোধ জানান।’

কোনো পক্ষকেই উসকানিতে পা না দেওয়ার অনুরোধ করেন মীর হেলাল।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

উদয় কুসুম কুলাঙ্গার চবি শিক্ষার্থী টপ নিউজ বহিষ্কার বিএনপি নেতা

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর