ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গণভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ দাবি জানান এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর অতিক্রম হলেও দেশ এখনও নিরাপত্তাহীনতা, পুনর্বাসন ও স্থিতিশীলতার অভাবে ভুগছে। অনেক পরিবার এখনও আশ্রয়, সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। প্রবাসী আন্দোলনকর্মী ও প্রত্যাবাসনকৃতদের জন্য আইনগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি জানান, গুম কমিশনের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থার যেসব ব্যক্তি বা কর্মকর্তা গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অতীতের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিতে জাতীয় পার্টি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। তাদের নির্বাচনী পোস্টারেও “আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী” লেখা ছিল। এনসিপির মতে, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একই রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করেছে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি। তাই জাপার কার্যক্রম স্থগিত করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।”
এনসিপি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকর সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই সনদের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন নির্বাচনকে সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং গণপরিষদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে হবে।
তিনি আরও জানান, নারী নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে সংরক্ষিত ১০০ আসনে সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারিতে যারা ১৮ বছর পূর্ণ করবে, তাদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা বলেন, অতীতে যেভাবে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কেবল তরুণদের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারে।