Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

চট্টগ্রাম ইপিজেডে আগুন
৩ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ২৫ শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৩৮
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) আগুন কবলিত পোশাক কারখানা থেকে এ পর্যন্ত ২০-২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে আর কোনো শ্রমিক-কর্মচারী আটকে আছেন কিনা, সেটা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় সৃষ্ট আগুন প্রায় তিন ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর ৫টি ইউনিটও।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আটতলা ভবনটির ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আগুন নেভানের সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো কাজে যোগ দিয়েছে।

আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগুনের যে অবস্থা, ভেতরে ঢোকা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। তারপরও পাঁচতলা পর্যন্ত আমরা গিয়েছি। ওইখানে আমাদের টিম কাজ করছে। এখন আমরা যেটা চাচ্ছি, আগে আমরা ছয়তলা, সাততলা এটার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনবো। এটার চর্তুদিকে ইলেকট্রিকের লাইন আছে, ভেতরে যাবার কোনো স্পেস নেই।’

প্রায় ২৫ শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধারের তথ্য দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের টিম এর মধ্যে অলরেডি ২০-২৫ জনের মতো আমরা রেস্কিউ করেছি। আর কেউ আছে কিনা সেটা আমরা খুঁজে দেখছি। কিন্তু আগুন যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। আমরা বিল্ডিংটাকে চতুর্দিকে ঘিরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। যেহেতু এটা টেক্সটাইল কারখানা, এখানে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু আছে।’

‘মানুষ যাতে হতাহত না হয় সেই বিষয়ে আমাদের বিশেষ নজর আছে, সম্পদও আমরা রক্ষার চেষ্টা করছি। ছয়তলা ও সাততলায় লোক ছিল, আমরা যখন দেখলাম যে আগুনের একেবারে লেলিহান শিখা, এটা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না এই মুহূর্তে, তখন সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের উদ্ধার করে নিচে নিয়ে এসেছি এবং নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গিয়েছি। আটতলায় লোক আছে কিনা, সেটা আমরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু এখনো আমাদের সেটা নিশ্চিত করেনি।’

‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত তোয়ালে ও অ্যাপ্রোন জাতীয় পোশাক তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে সিইপিজেডের ওই কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। সাততলা ভবনটির ছয়তলায় আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড, আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে মোট ১৬টি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।

আগুন কবলিত ভবনটির চারপাশ ঘিরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। অহেতুক লোকজন যাতে ভিড় করতে না পারে, সেই চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সারাবাংলা/আরডি/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর