রংপুর: রংপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক ওরফে ডিউক চৌধুরীর বড় ভাই লিংকন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বদরগঞ্জে হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় অভিযুক্ত এই নেতা আত্মগোপনে ছিলেন।
রংপুর রেঞ্জের পুলিশ প্রধান (ডিআইজি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, লিংকনকে বগুড়া থেকে রংপুরে নিয়ে এনে আরও তদন্ত করা হবে। এই গ্রেফতার রংপুর অঞ্চলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ, যা গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তীব্র হয়েছে।
জানা গেছে, লিংকন চৌধুরী (৪৮) স্থানীয়ভাবে বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। পুলিশের তথ্যানুসারে, তিনি একটি সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকারি প্রকল্প, রাস্তাঘাট এবং নির্মাণ কাজে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দমনের জন্য অর্থায়ন এবং সংগঠিত হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় বদরগঞ্জে মিছিলভাঙা, গুলিবর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় নিবন্ধিত কমপক্ষে চারটি মামলায় হামলা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতা এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
এই গ্রেফতারের প্রেক্ষাপটে তার ভাই ডিউক চৌধুরীর ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। ডিউক চৌধুরী রংপুর-২ আসনের সাবেক এমপি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি গতবছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে পলাতক। তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমন, হত্যাচেষ্টা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ডিউকের সঙ্গে লিংকনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তারা যৌথভাবে স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করতেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই গ্রেফতারকে ‘ন্যায়ের বিজয়’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। রংপুর মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের সময় এই ধরনের নেতারা ছাত্রদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিলেন। তাদের গ্রেফতার নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ।’