নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলায় জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র আল আমিনের ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী জেলা শাখা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোহাগ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা সভাপতি তাজমুল হাসান সাগর ও জেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এ নিন্দা ও দাবির কথা জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ডিমলা উপজেলার ‘জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এ এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্কুলটির দশম শ্রেণীর ছাত্র আল আমিনকে একই প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র নাসিম হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতভাবে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৩০–৪০ মিনিট আগে তৃতীয় তলায় বেঞ্চে বসা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে নাসিম প্রকাশ্যে আল আমিনকে হুমকি দেয়—‘আমি যদি তোকে এখনই আক্রমণ করি, এখানে তোকে রক্ষা করার মতো কেউ আছে?’
হুমকি দেওয়ার পর নাসিম হোসেন নিচে নেমে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার তৃতীয় তলায় ফিরে এসে পকেট থেকে ছুরি বের করে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের তাড়া করতে থাকে। আল আমিন শ্রেণিকক্ষের একটি কোণে লুকানোর চেষ্টা করলে, নাসিম তার ওপর অতর্কিতভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র স্কুল ব্যাগ দিয়ে নাসিমকে প্রতিরোধ করে আটক করে অফিস কক্ষে নিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) রেফার করেন।
জানা যায়, হামলায় তার ফুসফুস ছিদ্র হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রাতে তার অপারেশন সম্পন্ন হলেও তিনি এখনো অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।
এদিকে, অফিস কক্ষে আটক থাকা অবস্থায় ডিমলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রাব্বি ও সেলিম ইসলাম নাসিম হোসেনকে বের করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।
ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এ ঘটনা স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষক এবং প্রশাসনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; কিন্তু এ ঘটনায় চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
নেতৃবৃন্দ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। পাশাপাশি কোনো সুযোগসন্ধানী পক্ষ এ ঘটনায় জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গুরুতর আহত ছাত্র আল আমিনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবিও করেন।