Saturday 26 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রিপেইড মিটারের ‘জুলুম’ বন্ধ ও নেসকোর জবরদস্তির বিরুদ্ধে নগরবাসির ক্ষোভ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:০৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুর: রংপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃক জোর করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতারা এ দাবি জানান।

এ সময় তারা অভিযোগ করেন, নেসকো গ্রাহকদের আপত্তি উপেক্ষা করে হুমকি দিয়ে মিটার ফিট করছে, যা সেবামূলক খাতের মূলনীতির লঙ্ঘন। এই দাবিতে তারা মানববন্ধন, র‍্যালি এবং অফিস ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যা ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, “প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বাড়ায় এবং বিদ্যুৎ সেবাকে ব্যবসায়িক করে তুলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নেসকো আগের জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে জোরজবরদস্তি করছে, যাতে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই মিটারের কারণে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগাম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হলে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।”

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, গৃহিণী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, যারা একত্রিতভাবে নেসকোর ‘টাকা চুরির অভিযান’ হিসেবে এই ব্যবস্থাকে অভিহিত করেন। তারা দাবি করেন যে, গণশুনানী ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের অধিকার লঙ্ঘন।

রংপুরে প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গত কয়েক মাস ধরে তীব্র হয়েছে। এই আন্দোলন উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। নেসকোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ‘স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার ইনস্টলেশন প্রজেক্ট’ এর নামে জোরজবরদস্তি করছে, যা গ্রাহকদের আগাম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে বাধ্য করে।

আন্দোলনকারীরা জানান, নেসকো এই মিটারের মাধ্যমে অতিরিক্ত লাভ করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরিয়া’ পদক্ষেপ।

কমিটি ঘোষণা করেছে, আগামী সপ্তাহে যেকোনো দিন মানববন্ধন এবং র‍্যালি আয়োজন করবে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, গণশুনানী আয়োজন করে গ্রাহকদের মতামত নেওয়া হোক। যদি দাবি না মানা হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।

সারাবাংলা/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো