বগুড়া: জেলার ৩টি আসনের যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলে। যাচাই-বাছাইয়ে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে দুইজন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ৪জন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন শিউলীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও প্রার্থীরা।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মোট ৭জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে কোনো আপত্তি না থাকায় পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম, বিএনপির আরেক প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেস এর প্রার্থী মো. আসাদুল হক এবং গণফোরামের জুলফিকার আলী। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপির মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকা জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে ভোটারদের স্বাক্ষর ও তথ্যের মধ্যে গড়মিল পাওয়া যায়। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার মনোয়নপত্রে শিক্ষাসনদ সঠিক না থাকায় তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. জামাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। এছাড়া এই আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় পার্টির বগুড়া জেলার সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফ নামায় তথ্যের গরমিল থাকায় এবং শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর হলফনামায় তথ্য গোপন ও নথিপত্রে অসংগতির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া তথ্যে গরমিল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অপর দুজন হলেন গণ অধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরমধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, জাতীয় পার্টির মো. শাহিনুর ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর মো. তৌহিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নুর মোহাম্মদ। এই আসনে হলফনামায় মামলার তথ্য গড়মিল থাকার কারণে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।