নওগাঁ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৪১ জনের মধ্যে ৩৩ জনের মনোনয়ন মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব আসনে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
নওগাঁ-১ (পোরশা,সাপাহার ও নিয়ামতপুর)
এই আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নিজ রাজনৈতিক দলের স্বপক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদুস সালেহীন ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহরাব হোসেনের এক শতাংশ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গড়মিল পাওয়ায় দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এছাড়া এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান, জামাতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল হক শাহ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট)
জেলার পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৬জনেরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দেলোয়ার হোসেন,খেলাফত মজলিসের আব্দুর রহমান,এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের হুমায়ন কবির চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী)
জেলার মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৩ আসন। এই আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক যুবদল নেতা ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া এই আসনে জামায়াতের মাহফুজুর রহমান, বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাসির বিন আসগর,এনপিপির আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত, বাসদের কালিপদ সরকার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাসুদ রানার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁ-৪ (মান্দা)
এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা দুইজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ও আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের স্বপক্ষে ১ শতাংশ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গড়মিল পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারি টিপু, জামাতের মো. আব্দুর রাকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, সিপিবির ডা. এস এম ফজলুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর)
এই আসনে ৭জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ওই প্রার্থী হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও তার স্বপক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, সিপিবির শফিকুল ইসলাম,এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই)
রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, জামাতের খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম, রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলার ৬টি আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যেগুলো আজকে আমরা যাচাই-বাছাই করেছি। সেখান থেকে ৩৩টি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে পরিপূর্ণ তথ্য না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র গুলো বাতিল করা হয়েছে তাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।