জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রীকে হেনস্থা এবং পরে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। তবে কিছু সময় পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮–১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাহিমা আক্তার ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি হিজাব পরিহিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে হেনস্থা করা হয় এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, জবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, বর্তমান সদস্যসচিব সামছুল আরেফিনসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাভার্ড ভ্যানের সামনে অবস্থান নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মাহিমা আক্তার বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে এক আত্মীয় ছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসে তাকে হেনস্থা করেন এবং হিজাব ও মাস্ক খুলতে বলেন, যা তাকে মানসিকভাবে বিব্রত করেছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম জানান, মাহিমা আক্তার তার স্ত্রী এবং তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে প্যানেলের পক্ষে কাজ করছিলেন। সকাল থেকেই গেটের বাইরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি চলছিল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সহায়তায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে। এভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে কাউকে হেনস্থা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সমাধান করা হয়েছে।