সাতক্ষীরা: জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৪ পরীক্ষার্থী ও একজন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন পরীক্ষার্থীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বহিষ্কার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচয় প্রকাশে প্রশাসনের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ২০ হাজার ৯৭২ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। জেলার ৩২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় ৪ হাজার ২৮৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষা চলাকালে সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন জানান, তার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজ। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পরে ৩০৩ নম্বর রুমে ডিউটিরত এক শিক্ষক অসদুপায়ে এক পরীক্ষার্থীর কাছে চিরকুটে প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহ করছিলেন। ওই পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ৫৯১১৭৮৭।
রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘উত্তর দেওয়ার ঘটনাটি নজরে আসার পর ওই শিক্ষার্থীর পাশে বসা পরীক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে জেরা করা শুরু করেন। এরপর পুরো কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে ওই শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।’
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার ইসতিয়াক আহমেদ অপু–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন এবং সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ‘বিষয়টি তাদের কানে এসেছে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।’
তারা আরও বলেন, ‘যদি কেউ অসদুপায় অবলম্বন করে থাকে, তাহলে বিধি অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানানো যাবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক ছিল। প্রশ্নপত্র বিতরণ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়নি। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা স্বস্তির সঙ্গে কেন্দ্র ত্যাগ করেছেন।’