পঞ্চগড়: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পৌষের শীতে নাকাল জনজীবন। সেইসঙ্গে জেলার উপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে শুরু করেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিস ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। জেলায় উপর দিয়ে ঘন্টায় ১০-১২ কিলোমিটার বেগে হিমালয় থেকে আসা হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার রাত থেকে কুয়াশায় ঢাকা পড়ে জেলার পথঘাট। এদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাতভর বৃষ্টির মত ঝড়তে থাকে কুয়াশা। ভোর থেকে কুয়াশার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
রাত গভীর হলেই জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলো ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গেলে সূর্যের দেখা মিলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিমালয় থেকে নেমে আসা হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। শীতজনিত কারণে অনেকেই ঠান্ডা-জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ ধরনের রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সদর উপজেলায় চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, ‘শীত খুব বেশি লাগছে। রাতে কাঁপুনি ধরে, শরীর ব্যথা করে। কম্বল না থাকলে এই ঠান্ডায় থাকা খুব কষ্ট।’
পথচারী আকবর আলী বলেন, ‘ঘন কুয়াশার কারণে সকালে চলাচল করতে ভয় লাগে। দূরের কিছুই দেখা যায় না।’
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘আজ তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং ঘণ্টায় ১০-১২ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এ ধরনের শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।’