ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। শুরুতে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ জানালেও বিক্ষোভকারীরা এখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শাসকগোষ্ঠী যেমন গুলি চালাচ্ছে, তেমনি বিক্ষোভকারীরাও পালটা হামলা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানী তেহরানের এক চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনকে জানান, তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জনের মরদেহ এসেছে, যাদের ‘অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ’ হয়ে প্রাণ হারান।
তবে হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়ে ইরানের সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই চিকিৎসক দাবি করেন, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হাসপাতাল থেকে মরদেহ সরিয়ে নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। তার ভাষ্য অনুযায়ী নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ।
শুক্রবার ইরানি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ শুক্রবার জানায়, ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী।

একই দিনে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আট সদস্য নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুক্রবার চিকিৎসকের দেওয়া সংখ্যার তুলনায় অনেক কম মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করে, যদিও প্রতিবেদন পদ্ধতির পার্থক্য এই ব্যবধানের কারণ হতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি, যারা কেবল শনাক্ত হওয়া নিহতদের হিসাব রাখে, তারা জানায়— বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৬৩ জন মারা গেছে, যার মধ্যে ৪৯ জন বেসামরিক নাগরিক।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল ভেঙে পড়া অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে। তবে খুব দ্রুতই তা বিস্তৃত হয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র উৎখাতের দাবিতে রূপ নেয়। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে বিক্ষোভকারীরা সরকারি স্থাপনায় হামলা শুরু করে, ভাঙচুর করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্যও।