Sunday 11 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিচ্ছে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৬ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:০০

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সই করা কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এসডিএমএ) তৃতীয় দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে তুরস্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর বরাত দিয়ে শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিনিধিদের আলোচনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এসডিএমএ জোটে যুক্ত হবে আঙ্কারা।

২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এসডিএমএ) সই হয়। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—চুক্তিভুক্ত কোনো রাষ্ট্রের ওপর বহিঃশক্তির হামলা হলে অপর পক্ষ সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিরক্ষা জোটের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক হলো পাকিস্তানের পরমাণু সক্ষমতা। মুসলিম বিশ্বে একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান, এবং চুক্তির আওতায় দেশটির এই কৌশলগত সক্ষমতাও বিবেচনায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও প্রায় ছয় লাখ সদস্যবিশিষ্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে বিবেচিত। ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাঠামোতে পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

চুক্তি সইয়ের দুই দিন পর, ১৯ সেপ্টেম্বর এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এই জোটটি ন্যাটো-এর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট—আক্রমণাত্মক নয়। কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সুযোগ এতে রাখা হয়নি। তবে সৌদি আরব বা পাকিস্তানের ওপর হামলা হলে আমরা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করব।’

তুরস্ক বর্তমানে ন্যাটোর একমাত্র এশীয় সদস্য রাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প-এর প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের একাধিক ইস্যুতে মতানৈক্যের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্যএশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকায় কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতে চায় তুরস্ক। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঙ্কারার ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তুরস্কের রাজনীতি ও কূটনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই এসডিএমএ জোটে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সৌদি ও পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে আসছে তুরস্ক। আলোচনা সফলভাবে শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর