Sunday 11 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পঞ্চগড়ে হাদি হত্যার বিচার দাবির বিক্ষোভে লাঠিচার্জের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৯ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০১

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে সেনা সদস্যদের লাঠিচার্জের ঘটনায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের শেরে বাংলা পার্ক মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের পর সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার সড়ক অবরোধে পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক’শ যানবাহন আটকা পড়ে। বিকেল ৪টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে বক্তব্য শেষে সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরপর সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি সমাপনী বক্তব্যের শেষ দিকে আকস্মিক সেনা সদস্যরা মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের ওপর।

বিজ্ঞাপন

এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে আসেন এবং উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি, সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান, ছাত্র আন্দোলনের নেতা আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ, মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকারিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আমাদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। আমরা কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছি। আকস্মিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের উপর হামলা ও লাঠিচার্জ করেন। এ সময় আমাদের ২০-২৫ আহত হন। আমিসহ ২৩ জন আপাতত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আমরা এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ জনের মত আহত রোগী এসেছেন। এখন পর্যন্ত ২৩ জন ভর্তি হয়েছে। তারা শক্ত কিছুর আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের ব্লান্ড ইনজুরি রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। কয়েকজনকে অবজারভেশনে রেখেছি।’

পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, ‘দীর্ঘসময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় আমাদের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের সড়কের একপাশে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলেন। এ সময় তারা আমাদের সদস্যদের উপর উত্তেজিত হলে তাদের সরিয়ে দেওয়ার সময় কারো কারো উপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে। তবে লাঠিচার্জ করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের নিয়ে আমাদের বসার কথা বলা হয়েছে। তারা কথা বলতে সম্মত হয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর