ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আলোচনায় বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলাপের পর রাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি।
তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে ও পরে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের যোগাযোগ হয়েছে তার। এখনো যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব রয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসতে তেহরানের প্রস্তুতির কথাও জানান আরাগচি। তবে এমন আলোচনার জন্য কোনো হুমকি দেওয়া যাবে না বা নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, ‘আপাতত আমরা মনে করি না যে ওয়াশিংটন ন্যায্য আলোচনার জন্য প্রস্তুত। যখন তারা প্রস্তুত হবে, তখন আমরাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।’
আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টানেন আরাগচি। তিনি বলেন, আগেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। এবারও তারা এমন পদক্ষেপ নিতে চাইলে তেহরান প্রস্তুত। গতবারের চেয়ে এবার ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি। আশা করা হচ্ছে, বুদ্ধি খাটিয়ে সঠিক পথটিই বেছে নেবে ওয়াশিংটন।
সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বিকল্প তৈরি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার, তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পক্ষকে সহায়তা দেওয়া।
এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে।
সেদিন তিনি বলেন,‘ইরানের নেতারা ফোন করেছেন। একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে, তারা আলোচনা করতে চায়।’
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা ইরানি রিয়ালের মূল্য কমে যাওয়ার প্রতিবাদে তাদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়।
এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬৪৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, সাড়ে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে ইরান।