ঢাকা: হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল। রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ আট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এসব এলাকায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়— ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা পাঁচ দিন ধরে এখানেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে টানা আট দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
ঘন কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভ্যানচালক, দিনমজুর, হোটেল শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। অনেক এলাকায় শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন শীতার্তরা।
এদিকে কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, সোমবার সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ফের তাপমাত্রা কমতে পারে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা কুয়াশা থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আগামী কয়েকদিন এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।