ইবি: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার দ্রুত বিচার ও খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘বিচার-বিচার-বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘হাদী ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’ ও ‘দিন দুপুরে মানুষ মরে, ইন্টেরিম কী করে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, বিপ্লবী শহিদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনো হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। ডিজিএফআই, র্যাব, পুলিশ প্রশাসন সবাই নীরব। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা হাদি ভাইয়ের উত্তরসূরি। আগামীতেও যদি ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, আমরা হাদি ভাইয়ের মতোই তাদের রুখে দেব।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, বিপ্লব ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে জনগণই সবসময় রক্ত দিয়েছে, কিন্তু সেই রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বাদ কেড়ে নিয়েছে এলিট শ্রেণি। শরিফ ওসমান হাদি চেয়েছিলেন সেই প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ বাংলাদেশের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে। আধিপত্যবাদী শক্তিরা সেটিই সহ্য করতে পারেনি। হাদি ভাইকে হয়ত হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু তার চেতনা মুছে ফেলা যাবে না। আমরা কোনো বিদেশি আধিপত্যবাদ বা সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ মেনে নেব না।
আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর মন্ডল বলেন, ‘শুধু শুটার ফয়সাল নয়, হাদি হত্যার পেছনে বড়ো একটি চক্র কাজ করেছে। খুনি, আদেশদাতা, পরিকল্পনাকারী ও যারা ব্যাকআপ দিয়েছে- সবাইকে সামনে আনতে হবে। ইন্টেরিম সরকার যদি বিচার না করে, তাহলে আমরা তাদের শান্তিতে ঘুমাতে দেব না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আওয়ামী আমল থেকে শুরু হয়ে ইন্টারিম সরকারের সময়েও চলছে। আলিফ, সাম্য, সোহাগ থেকে শুরু করে এখন হাদি ও মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। এই সংস্কৃতি বন্ধ না করলে হত্যাকাণ্ড আরও বাড়বে। ছয় মাস আগে ঘটে যাওয়া সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডেরও কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসন ব্যর্থ। এই প্রশাসনের আমলেই সাজিদ হত্যার বিচার সম্পন্ন করতে হবে।’