ঢাকা: বিশাল সংখ্যক ভোটার সমর্থনের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ‘বিশেষ বিবেচনায়’ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে।
বাতিলের কারণ ও কমিশনের সিদ্ধান্ত
আইন অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিরুনা ত্রিপুরার ৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি জমা দিয়েছিলেন মাত্র ৬১৩ জনের স্বাক্ষর। ৪ হাজার ১২৮ জন ভোটারের সমর্থনের ঘাটতি থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। তবে শুনানিতে তার যুক্তি ও পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন তাকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেয়।
জিরুনা ত্রিপুরার বক্তব্য
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে জিরুনা ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে বলেন, “পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এতো বিশাল সংখ্যক মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাইনি। বাছাইয়ের দিন সমর্থকদের নিয়ে গেলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে সময় শেষ হয়ে যায়, ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার আবেদন বাতিল করেছিলেন। কমিশন বিষয়টি সদয়ভাবে বিবেচনা করায় আমি কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জিরুনা ত্রিপুরা।
বিতর্কিত অতীত ও অপসারণের ইতিহাস
প্রার্থিতা ফিরে পেলেও জিরুনা ত্রিপুরার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর তাকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
২০২৫ সালের ৭ জুলাই মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়। একই সালে ১৪ অক্টোবর নানা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়।