ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে আসামিপক্ষের ডিসচার্জ চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পলক ফেসবুকে পরপর তিনটি স্ট্যাটাস দেন। এসব স্ট্যাটাসের পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়।
দ্বিতীয় অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা ও খিলগাঁওয়ে সংঘটিত সহিংসতার কথা তুলে ধরা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ১৮, ১৯ ও ২৪ জুলাই এসব এলাকায় গংগাচরণ রাজবংশী, রাসেল, হাসিব, মোসলেহ উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং মারণাস্ত্র প্রয়োগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় জয় ও পলকের বিরুদ্ধে। ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে পলকের একটি ফোনালাপের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের দায় আরোপ করা হয়। ওইদিন জাবিদ ইবরাহিম, শামসুল আলমসহ অনেকেই নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এখানেও মারণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগ পাঠ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা পলকের কাছে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ জানতে চান, তিনি দোষ স্বীকার করছেন কি না।
জবাবে পলক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা এবং তিনি নির্দোষ।
এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এদিন সকালে কারাগার থেকে পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে পলাতক সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসামিপক্ষ থেকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদনও জানানো হয়েছে।