Tuesday 28 Apr 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

স্বাস্থ্যখাতের দুর্দশায় চিকিৎসকরা ৫০ শতাংশ ও আমলারা ৩০ শতাংশ দায়ী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৭
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ঢাকা: দেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান বেহাল অবস্থার জন্য চিকিৎসকেরা ৫০ শতাংশ, আমলারা ৩০ শতাংশ এবং রাজনীতিবিদরা ২০ শতাংশ দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) কাজী দেলোয়ার হোসেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ রোড টু ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ তিন পক্ষের দায়িত্ব অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই স্বাস্থ্যখাতের প্রত্যাশিত উন্নতি হচ্ছে না। অনেক সময় সরকারের মধ্যেই সরকার বাধা সৃষ্টি করে। সরকারি সেবার লক্ষ্য মানুষের সেবা হলেও বেসরকারি খাতের লক্ষ্য মূলত মুনাফা। এই ফাঁকগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করা সম্ভব নয়। এছাড়া, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চেম্বারে কাজ শেষে অনেক চিকিৎসক বাসায় ফিরেও নিরাপদে ঘুমাতে পারছেন না।’

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার (পিএইচসি) জন্য একটি অধ্যাদেশ বা আইন থাকা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের সেবা নিশ্চিত করা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ন্যায্যতা আনতে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ও সাংবিধানিক আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’

সভায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. আকরাম হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যকে একটি মৌলিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের উচিত এই খাতকে গুরুত্ব দেওয়া। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই।’

ব্র্যাকের সিনিয়র পরিচালক আকরামুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে যেভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট নয়। সরকারি ও বেসরকারি- উভয় খাতের সেবার মান নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।’

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রোমানা হক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে কতজন চিকিৎসক থাকবেন এবং স্বাস্থ্যসেবা টিমের গঠন কেমন হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা দরকার। বিক্ষিপ্তভাবে না এগিয়ে একটি নির্দিষ্ট মডেল অনুযায়ী এগোলে সব নাগরিকের জন্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

সভায় অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর