ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিনেই জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ভর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নির্বাচন পরিচালনা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এই প্রচারের সূচনালগ্নেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন কিছু কর্মসূচি কার্যকর করছেন, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের নীতিনালায় সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘আজকের দিনেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি জাতির সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, যা তারেক রহমানের পলিসি বিষয়ে জনসম্পৃক্ততা ও জনমত তৈরির একটি সুসংগঠিত উদ্যোগ।’
প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন ‘তারেক রহমানকে পরামর্শ দিন’ উদ্যোগটি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশের মানুষের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকেই দেশব্যাপী পোস্টার ও ড্যাংলারের মাধ্যমে একটি বিশেষ কিউআর (QR) কোড ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই কোড স্ক্যান করে যে কেউ খুব সহজেই নিজের চিন্তা, মতামত ও পরামর্শ সরাসরি তারেক রহমানের কাছে পাঠাতে পারবেন বলে তিনি জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘দেশের যে কোনো অঞ্চল থেকে, যে কোনো বয়স ও পেশার মানুষ যে কোনো সময় এই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজের ভাবনা জানাতে পারবেন। জনগণের দেওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই দেশ গঠনের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন তারেক রহমান।’
দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয় ‘লেটার টু তারেক রহমান’। ‘তারেক রহমান শুনবেন আপনার কথা’— এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নাগরিকদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সরাসরি চিঠির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ কেমন হওয়া উচিত, চারপাশের সমস্যা কী এবং তার কার্যকর সমাধান কী হতে পারে—এসব বিষয়ে নাগরিকরা চিঠি লিখে গুলশান-২ এর নির্ধারিত ঠিকানায় (হাউজ-১০সি, রোড-৯০) পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি ই-মেইল ([email protected]), ওয়েবসাইট (letter2tr.com)।’
তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ‘Match My Policy’ নামের একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপের কথা।
মাহ্দী আমিন জানান, অত্যন্ত সহজ ও পরিচিত ইন্টারফেসের এই অ্যাপের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই সারাদেশ থেকে তিন লক্ষাধিক মানুষ বিএনপির বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন। জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও পলিসিভিত্তিক আলোচনাকে গুরুত্ব দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ কর্মসূচি ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট সফরে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সেখানে একটি হোটেলে স্থানীয় তরুণ সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
তিনি জানান, এ অনুষ্ঠানে ১৯টি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১২৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। তরুণরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন, যা তারেক রহমান মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির পরিকল্পনা, প্রকল্পের অর্থায়ন কাঠামো ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন।
পঞ্চম কর্মসূচি হিসেবে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন ‘বিএনপির আটটি লিফলেট’। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সেক্টরে বিএনপির পলিসি ও তারেক রহমানের ভিশন নিয়ে তৈরি এই আটটি লিফলেট সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় সব বিদেশি দূতাবাসের কূটনীতিকরা উপস্থিত থেকে এসব নীতি পর্যালোচনা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ২০১৬ সালে ভিশন-২০৩০ ঘোষণার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পথযাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে চূড়ান্তভাবে ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি সেক্টরে বিএনপির সুস্পষ্ট ও সুবিস্তৃত রূপকল্প রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বিএনপি একটি নীতিনির্ভর রাজনৈতিক দল, যারা আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দেশ গঠন, সংস্কার ও মানুষের অধিকার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণ বিএনপির সঙ্গে থাকবেন এবং আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করবেন।’