Friday 23 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই: জামায়াত আমির

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৮ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৮

পঞ্চগড়: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল চালু করতে চাই।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ১০ দলীয় জোটের ঢাকার বাইরে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনের প্রথম কর্মসূচিতে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠের জনসভায় কেন্দ্রীয় আমির এ কথা বলেন।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, এই উত্তরবঙ্গ আমাদেরকে খাদ্য এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। আজ এই উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে ইচ্ছে করে। আমি তার সাক্ষী হতে এসেছি। উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা আর বেকারের মূখ দেখতে চাইনা। আমাদের সকলের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। আমাদের প্রত্যোকটি যুব-যুবতি, প্রত্যেকটি নাগরিকরকে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরী করতে চাই। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল চালু করতে চাই।

বিজ্ঞাপন

আমির বলেন, আমাদের কাছে কোন কার্ড নাই। আপনারা সবাই ভাই বোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে আগামীতে বেচার ও দায়-দয়ামুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারো দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোন এলাকার মানুষ বসবাস করবে তা আমরা চাই না। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারী এ আমরা করব না। আমরা যুবকের হা শক্তিশালী করবো ইনশাআল্লাহ, যুবতির হাতও শক্তিশালী করব। আমরা নারী-পুরুষ মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। মানুষ আওয়াজ দেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ওই টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টায় দিব ইনশাআল্লাহ। বলব তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।

তিনি আর বলেন, চারটি বিশাল নদী আল্লাহ তায়ালা উত্তরবঙ্গকে দান করেছিলেন। এগুলো হলো তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র এবং করতোয়া। এখন দেখা যায় এগুলো যেন নদী নয়, যেন মরুভূমি। মরা কংকাল হয়ে আছে নদীগুলো। আজকে আমাদের আল্লাহর দান এ নিয়ামত নদীগুলোকে গুম করা হয়েছে। এই দেশের কি কোন মা-বাপ ছিল না? তাহলে আমার নদী মরে গেল কেন? ওরা জনগনের প্রতি পাঁচ বছরে একবার দরদের হাড়িতে জ্বাল দেয় আর তা উতলাইয়া উঠে। বাকী সাড়ে চার বছর তাদের আর হারিকেন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিল, বসন্ত আসলে তারা এসে বলে কুহু কুহু। এরপর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা অবিচার, দূর্নীতি, চাঁদাবাজী, দখলদারী, স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক আধিপত্যবাদমুক্ত, দূর্নীতিমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা থামবো না, কেউ থামাতে পারবে না।

জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, এনপিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ দলীয় জোট মনোনিত প্রর্থী সারজিস আলম, পঞ্চগড়-২ আসনের জামায়াত মনোনিত প্রার্থী সফিউল আলম।

জনসভায় বক্তব্য দেন জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনপিপির জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলম নয়নসহ ১০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর