Friday 23 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পঞ্চগড়ে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৩ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৮

পঞ্চগড়: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্ছিত করা হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে শুধু পঞ্চগড় নয় ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। চুরি করতে দেওয়া হবে না। নদীগুলো খুন করা হয়েছে। আমাদের জোট ক্ষমতায় গেলে শুধু নদী নয় উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি হেলিককপ্টার যোগে পঞ্চগড় স্টেডিয়ামে এসে নামেন। এই জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, দশ দলের সমন্বয়কে আপনারা ভোট দিন, আমাদের পার্লামেন্টে পাঠান, যাতে সরকার গঠন করতে পারে। আমরা কথা দিচ্ছি, শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষেরও জীবনে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে না। আমার কাছে কোন কার্ড নেই। আপনাদের ভালোবাসার কার্ড চাই।’

ড. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে চাই, এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট হবে। আমরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তাহলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে ইনশাল্লাহ। এই এলাকার মাটি উর্বর, এই এলাকা পিছিয়ে থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। ষড়যন্ত্র করে, বঞ্চিত করে, পিছনে রাখা হয়েছে।

শুধু পঞ্চগড়ে নয়, বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, চুরি করে যে লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভিতরে হাত ঢুকাইয়া আমরা বের করে আনব ইনশাআল্লাহ। আগামীতে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না। আমি বিশ্বাস করি আজকের জনসভায় শহিদ পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন, ২৪-এর জুলাই যোদ্ধা, ৭১-এর বীরেরা রয়েছেন। আমরা আপনাদের সকলের কাছে ঋণী। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে আমাদেরকে সন্মান করবো। দেশ সেবার সুযোগ পেলে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে, আপনাদের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, দেশে ইনসাফ থাকলে দুর্নীতি ও টাকার পাচার হতো না। জনগণ এবার গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে মুখিয়ে রয়েছে। জামায়াত কারও কাছ থেকে চাঁদা নেবে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে। ট্যাক্সের বাইরে কিন্তু একটা বেসরকারি ট্যাক্স আছে। প্রত্যেকটা মুদির দোকানে, রাস্তাঘাটে, হকারের কাছে, এমনকি রাস্তার পাশে বসে যে ভাই-বোনটি ভিক্ষা করে, তার কাছ থেকেও একটি ট্যাক্স নেওয়া হয়। ওই ট্যাক্সের টাকা আমরা আমাদের জনগণের হাতে তুলে দিতে চাই না। ওই ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

জনসভায় মঞ্চে থাকা জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন দলটির আমির। এ সময় তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে জোটের প্রার্থী এনসিপির সারজিস আলমকে শাপলা কলি ও পঞ্চগড় -২ আসনের জোটের প্রার্থী জামায়াতের সফিউল আলম সুফিকে দাঁড়িপাল্লা প্র্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়ে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান।

ভোট ডাকাতদের কারণে বিগত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি এবং দেশের মানুষ নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না উল্লেখ করে জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আর এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে আমাদের সামনে আসে, ৫ আগস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে।

জামায়াত আমির বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল–বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝতে পারবে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১০-দলীয় সমঝোতার জোটকে বিজয়ী করার মানে আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজ, দখলদার, ফ্যাসিবাদ, ব্যাংক ডাকাত, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপরে যারা হাত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট যুবকদের দক্ষ করে তোলা হবে।

ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। এমন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলের প্রতীকের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে গণভোটে হ্যাঁ এবং প্রতীকে হ্যাঁ দিতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্রে তারা সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে তাদের চলাফেরায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করছে জামায়াত।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। পঞ্চগড় -১ আসনের জোটের প্রার্থী এনপসিপির সারজিস আলম, পঞ্চগড় -২ আসনের জামায়াতে প্রার্থী সফিউল আলম সুফি, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জোটের শরিক দল জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

নামাজের পর দিনাজপুর এবং বিকেলে ঠাকুরগাও ও সন্ধায় রংপুরে ১০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দিবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর