ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজির পথ বাদ না দিলে আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট লাল কার্ড। চাঁদাবাজি আমরা তো করার প্রশ্নই ওঠে না। চাঁদাকে আমরা ঘৃনা করি। এটা ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা কারও মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। হ্যাঁ তারা যদি কল্যাণের পথে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসেন মোস্ট ওয়েলকাম জানাবো।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ির কাজলায় ১১দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের আয়োজনে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের দাড়িপাল্লার প্রার্থীদের পক্ষ্যে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই নতুন একটি পেশা এখন খুব ভাল চলতেছে। এই পেশার নাম কি বলতে পারবেন? সেটা হলো চাঁদাবাজি। একজন লোক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, শিল্প কলকারখানায় চাকরি করবে অথবা নিজে একটা ব্যবসা চালাবে। পেশা হবে কৃষক যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঠে যাবে ধান ফলাবে। পেশা হবে একজন শিক্ষিত যুবক মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ গড়বে। কিন্তু নতুন পেশার জন্ম হয়েছে। তার নাম চাঁদাবাজি। আপনারা কেউ চাঁদাবাজের ভাই, বোন, স্ত্রী, স্বামী, মা হতে রাজি আছেন? নাই। যারা এই পেশায় যুক্ত তাদের অনুরোধ করবো, ভাল পথে ফিরে আসুন। অন্য দশজন যেভাবে সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করেন, আপনিও সেরকম দায়িত্ব পালন করবেন, একজন গর্বিত নাগরিক হবেন। আর যদি চাঁদাবাজির পথ বাদ না দেন আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট লাল কার্ড।
মায়েরা ঘরের বাইরে কাজ করবেন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের মায়েরা অবশ্যই ঘরের বাইরে কাজ করবেন। আমাদের রাসুল (সা.) প্রত্যেকটি ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে মায়েদের শরীক করেছেন। আমি কে আমাদের মাকে সমাজের খেদমত থেকে বঞ্চিত রাখার। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং উন্নয়নে তাদের মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী তারা অংশগ্রহন করবেন। তাদের জন্য এখন দুটি জিনিস নেই। একটি তাদের নিরাপত্তা আর একটি সম্মান বা মর্যাদা। আমরা কথা দিচ্ছি ঘরে, কর্মস্থলে এবং চলাচলে তিনটি জায়গায়ই আপনাদের জন্যে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। কোনো জালিম আপনাদের ইভটিজিং করার দুঃসাহস দেখাবে না। কর্মক্ষেত্রে কোনোভাবে হেনস্তার শিকার হতে হবে না। চলাচলের সময় রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে মহিলাদের জন্য ইভিনিং বাস সার্ভিস চালু করবো। ডাবল ডেকার বাসে মায়েদের জন্য নিচতলা সংরক্ষণ করা হবে। আমাদের জীবনের চাইতে মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা বেশি।
গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আজাদি না গোলামি? এ লড়াকু জাতি আজাদির জন্য লড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আজাদি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না। বিজয় আমাদের নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা পুরোনো বস্তপঁচা রাজনীতি বাংলাদেশে দেখতে চাই না। ইতোমধ্যে যুবসমাজ এই ম্যান্ডেট দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে আমরা বাংলাদেশে পরিবর্তন চাই। আমরা মানবিক রাজনীতি চাই। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। ফ্যাসিবাদের ছায়ামুক্ত বাংলাদেশ চাই। আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যারা বাংলাদেশের জনগণের এই ভাষা বোঝে না, দেশের জনগণ আগামী ১২ তারিখ তাদের সেই ভাষা বুঝিয়ে দেবে।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এখানে (যাত্রাবাড়ী) গণহত্যা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এই জায়গার ঋণি আমরা সবার আগে পরিশোধ করবো। আপনাদের আমাদের পিছনে ঘুরতে হবে না। এখানে অনেকগুলো কওমি মাদরাসা আছে। সেদিন ওস্তাদ ছাত্ররা সমানতালে যুদ্ধ করেছে। আশ্চর্যের বিষয় প্রত্যেকটি সরকার কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা করেছে। তারাও এদেশের নাগরিক, ট্যাক্স, ভ্যাট দেয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো এ সমস্ত মাদরাসার যত্ন নেয় না কেন। এটা কোনো দয়ার দান নয়, এটা দায়িত্ব। তাদের সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সিনিয়র লেভেলে। কিন্তু এর আগে যাদের শিক্ষা শেষ হবে তাদের কি হবে? কওমি মাদ্রাসা যারা পরিচালনা করে তাদের সাথে বসে তাদের ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী কওমি মাদরাসাগুলোকে সম্মানের জায়গায় পৌছে দেওয়ার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করবো। কারণ বাংলাদেশে ইসলামি দ্বীনি শিক্ষাকে তারাই ধরে রেখেছে।
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। যুবক বন্ধুদের হাতকে বাংলাদেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। কারিগরের হাত কারও দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে না। নিজেই কিছু করে দেশকে উপহার দেয়। বেকার ভাতা দিয়ে বেকার তৈরি করবো না। বরং বেকারকে কিভাবে কর্মে পরিণত করা যায় তাই চেষ্টা করবো। আমরা যুবক যুবতীদের সম্মানের জায়গায় নিতে চাই। যুবক যুবতীদের মুখে বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংলিশ এবং আরবী তুলে দেব। সারা দুনিয়ায় তারা যাতে সম্মানের সাথে নিজের দেশের মুখ উজ্জল করতে পারে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয়মাসে একবার জনগণের মুখোমুখি করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ তাদের কাছে জানতে চাই তাদের সমস্যার কেন সমাধান হচ্ছে না। এটা জানার অধিকার তাদের থাকবে। আমরা ইশতেহারে যেসব কথা বলবো সেসব জানার অধিকার জনগণের থাকবে। আমরা কারও নিজের বাপের টাকায় দেশ চালাবো না। এই দেশ চলবে জনগণের টাকায়। যে জনগণ তাদের টাকা দিয়ে দেশ চালাবে সেই জনগণের কাছে তাদের টাকার হিসাব অবশ্যই দিতে হবে। এই জনপ্রতিনিধির সম্পদেরও হিসাব দিতে হবে আর সরকারি টাকারও হিসাব দিতে হবে। বলবেন অনেকে বলে করে না। আমরা যা বলি তাই করি।
সমাবেশ মঞ্চে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী কামাল হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এসময় মঞ্চে ১১ দলীয় ঐক্যের সব দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী কামাল হোসেন, জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ি এলাকায় শহিদ হওয়া আসলামের বোন শারমিন, এনসিপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার এসএম শাহরিয়ার, লুৎফর রহমান, নেজামে ইসলামী পার্টির নেতা মুফতি মোকলেসুর রহমান কাসেমী, এবি পার্টির নেতা লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিসের নেতা আবদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আনিসুর রহমান কাসেমীসহ অন্যান্যরা।