বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে পাকিস্তান, এই খবর মিডিয়া ভাইরাল হয়েছিল বেশ কয়েকদিন আগেই। তবে গত ২৫ জানুয়ারি বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই ঘোষণার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপে নিশ্চিতভাবেই অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে ঘটনায় এলো নতুন মোড়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও স্পোর্টস বলছে, পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে বিশ্বকাপ বয়কটের ব্যাপারেই নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে!
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে নিজের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের মতো তাদের ম্যাচগুলোও শ্রীলংকাতে আয়োজনের অনুরোধ করা হলেও আইসিসি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। আইসিসির ভোটাভুটিতে এক পাকিস্তান ছাড়া আর কেউই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বরাবরই বিসিবির পক্ষে কথা বলেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোও বলে আসছে, বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে দেশটি।
তবে এসবের মধ্যে গতকাল ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করে পাকিস্তান। এই ঘোষণার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপ থেকে সরে আসার ইচ্ছা নেই পাকিস্তানের।
তবে আজ জিও স্পোর্টস বলছে, পিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যতটুকু ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে করে সরকার সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে না। ‘এটা শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার না, নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণে পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।’
সেই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত যখন ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে বিকশিত করতে চায়, তবে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।’