ঢাকা: নাগরিক ঐক্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। কিন্তু দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে একটি আসনেও ছাড় না দেওয়ায় বিএনপিকে ত্যাগ করে একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে নাগরিক ঐক্য।
দলের সভাপতি মান্না বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসনে ভোটের মাঠে প্রচারে নেমে পড়েছেন। তিনি ধারণা করেছিলেন অন্তত একটি আসন ছাড় দেবে বিএনপি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেখা গেলো মান্নার দুটি আসনেই বেশ শক্ত প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ফলে মান্নার আর জোটে থাকা হয়নি।
গত ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, তিনি ও তার দল এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি নিজে দুটি আসনসহ আরও ১০টি আসনে দলীয় প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরপরই রাজনৈতিক মাঠে গুঞ্জন ছড়াতে থাকে মান্নার দল নাগরিক ঐক্য কি তাহলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেবে?
এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপি জোট ছাড়ার পরপরই জামায়াত জোটের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি জামায়াতের কাছ থেকে অন্তত একটি আসন চাচ্ছেন। কিন্তু জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আপাতত মান্নাকে কোনো আসন দিতে পারছে না।
যেহেতু জামায়াত জোটে যে কয়টি দল আছে সবাইকে আসন ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, প্রতিক বরাদ্দ সবকিছু শেষে সবাই পুরোদমে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এ অবস্থায় মান্নাকে আসন ছেড়ে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
জানা গেছে, এত কিছুর পরও হাল ছাড়েননি মান্না বা তার দলের নেতারা। যেহেতু এককভাবে নির্বাচন করলে তার দলের জাতীয় সংসদে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সেজন্য একটি জোটের সমর্থন তার প্রয়োজন। ওদিকে মাহমুদুর রহমান মান্না যে দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন দুটির একটিতে জামায়াতের প্রার্থী অন্যটিতে তাদের শরীক এনসিপির প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাদাতুজ্জামান আর ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতের জোট সঙ্গী এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব। এর যেকোনো একটি সমঝোতা করে জোটের ঘোষণা আসতে পারে।
জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সারাবাংলাকে বলেন, আমি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এককভাবে ভোটের মাঠে আছি। আপাতত কোনো জোটে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি সেরকম প্রস্তাব আসে তাহলে ভেবে দেখব।
নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার সারাবাংলাকে বলেন, জামায়াত জোটে যাওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা ভোটের মাঠে আছি। ঢাকা-১৮ আসনে জনসংযোগে ব্যস্ত আছি।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা সারাবাংলাকে বলেন, বিএনপির কাছ থেকে আসন ছাড় না পেয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন বলে শুনেছি। তবে আমাদের শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো গ্রীণ সিগন্যাল দেওয়া হয়নি।
নাগরিক ঐক্যের এক নেতা সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের নেতা মান্না ভাই ভুল করেছেন। বিএনপি যখন তার দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তখনই তার জামায়াত জোটে যোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এখন কোনো দিকে যেতে পারছেন না। আমরা এককভাবে নির্বাচন করলে ফলাফল কি হবে সেটা আপনারা ভাল বলতে পারবেন।