Wednesday 28 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিয়োগ ঠেকাতে বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগ ইবি ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে

ইবি করেসপন্ডেন্ট
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৩

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া: নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতি বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি বাইকে তুলে নিতে দেখা যায় ছাত্রদল আহ্বায়ক। পরে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সূত্র জানায়, বুধবার বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ নির্বাচনি বোর্ড ছিল। বিভাগের সভাপতি সকাল ৮টার দিকে তার ঝিনাইদহের বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওয়ানা হন। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে তা দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সকাল ১০ টায় নিয়োগ নির্বাচনি বোর্ড এর সময় নির্ধারিত থাকলেও ঘণ্টাখানেক পরে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। এই বোর্ডে ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দুপুরের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অপহরণকৃত ওই শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি।

একটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং সাদা দল আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের প্ররোচনায় সাহেদ আহম্মেদ এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করতে মঙ্গলবার রাতেও ওই শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী সভাপতি শরিফুল ইসলামের ছোট ভাই বলেন, সকালে লক্ষ করছিলাম ভাইয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কল দিচ্ছিল। ভাইয়া অসুস্থ থাকাতে, প্রথমে যেতে পারবেন না বলে ওনাদের বলেন। কিন্তু ওনার বারবার কল দেওয়াতে ভাইয়া অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েন। সে যখন বাসার নিচে নামে তখন একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শুনি। তখন ভাবছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠিয়েছে ভাইয়াকে নিতে। কারণ মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যিনি কল দিছিলেন তিনি গাড়ি পাঠাচ্ছেন এমন বলেন। কিন্তু এর প্রায় আধাঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়িচালক হাসমত নামের একজন আমাকে কল দিয়ে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চান।

তিনি বলেন, তিনি নাকি ভাইয়াকে নিতে আসছেন। তখন আমি তাকে জানাই ভাইয়াতো চলে গেছে। এরপর থেকে ভাইয়ার নিজস্ব ও অফিসের মোবাইল নম্বরে কল দিচ্ছি কিন্তু তার ফোন বন্ধ বলতেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমরা তাকে অপহরণ করব কি জন্য? সে কোথায় আছে জানি না। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এ সময় ক্যাম্পাসে এসে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, আমি থাকি ক্যাম্পাসে। ঝিনাইদহতে অপহরণে কিভাবে যাবো। এ ছাড়া আমার সাথে গত ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টায় কোনো শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। আমি প্রশাসনের অংশ, এ ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে স্পেসিফিক প্রমাণ থাকলে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ রইল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ছাত্রদল আহ্বায়ক কোনোভাবেই বাসা থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারেন না। উপর্যুক্ত তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছে। এ সময় তারা অতিদ্রুত সুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষককে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর