Friday 30 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাঘ বাঁচাতে সুন্দরবনের মাঝেই সচেতনতামূলক সভা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪১

খুলনা: সুন্দরবন বর্তমানে বাংলাদেশের বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। এ বনের নিস্তব্ধতা বাঘসহ নানা বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস। তবে সেই বনের মাঝেই প্যান্ডেল খাঁটিয়ে, জেনারেটর ও সাউন্ডবক্স বসিয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে বন বিভাগ। লোকালয়ে অনুষ্ঠান করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বনের ভেতরে বাঘ ও বন সংরক্ষণের নামে এমন আয়োজন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বিস্ময় ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের বজবজা টহল ফাঁড়ি এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানস্থলটি সুন্দরবনের ঝপঝোপিয়া ও শাকবাড়িয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত। সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের সহযোগিতায় এবং পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ওলিউল্যাহ। এছাড়া সাংবাদিক, ভিটিআরটি ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও বাওয়ালিরাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, বনবিভাগের ব্যবস্থাপনায় ট্রলারে করে নদীপথে তাদের সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও বাওয়ালিদের অনেকেই নিজ নিজ নৌকা নিয়ে সভায় যোগ দেন। অংশগ্রহণকারীদের দুপুরের খাবার এবং গেঞ্জি ও ক্যাপও দেওয়া হয়।

জলবায়ু সচেতনতা এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক শুভ্র শচীন বলেন, সুন্দরবনে মানুষের ভিড়, উচ্চ শব্দ, জেনারেটরের কম্পন ও আলো বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। বন বিভাগের সচেতনতা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ভালো হলেও আয়োজনের ধরন ও স্থান নির্বাচনে আরও সংযমী হওয়া প্রয়োজন ছিল। বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করে বাঘের আবাসস্থলে মানুষের সমাগম সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত। এছাড়া পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অনুমোদনহীন রিসোর্ট। সেখানেও সার্বক্ষণিক সাউন্ডবেক্স উচ্চস্বরে গান বাঁচতে থাকে থাকে।

এ বিষয়ে সুন্দরবনের বজবজা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিব তালুকদার বলেন, অনুষ্ঠানটি মূলত লোকালয়ে অবস্থিত কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন এলাকায় করার কথা ছিল। তবে আমার টহল ফাঁড়িটির অবস্থান মাঝামাঝি জায়গায় হওয়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। ভালোভাবে অনুষ্ঠান করতে প্যান্ডেল ও সাউন্ডবক্সের ব্যবস্থা করা হয়।

খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষণ শরিফুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি মূলত জেলে ও বাওয়ালিদের নিয়ে সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে লোকালয়ে অনুষ্ঠান করলে নানা ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ও সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান লোকালয়েই হওয়াই যুক্তিযুক্ত ছিল। বজবজা টহল ফাঁড়ি সুন্দরবনের ভেতরে অবস্থিত। সেখানে এ ধরনের আয়োজন ঠিক হয়নি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে সুন্দরবনের ভেতরে এ ধরনের অনুষ্ঠান না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর