Thursday 05 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অচল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে নৌ উপদেষ্টা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৩ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৬

নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেনের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: অনির্দিষ্টকালের কর্মববরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। কয়েক’শ শ্রমিক-কর্মচারী বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও তারা আশপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টার বন্দর ভবনে প্রবেশ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে এ উত্তেজনা তৈরি হয়।

জানা গেছে, নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি ঢাকা থেকে সকাল সোয়া ১০টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টাকে বহনকারী গাড়ি বন্দর ভবনের অদূরে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়৷ সামনে-পেছনে পুলিশের নিরাপত্তার গাড়ি ছিল। উপদেষ্টার পেছনের গাড়িতে ছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান, যিনি বিমানবন্দর থেকে উপদেষ্টাকে নিয়ে বন্দর ভবনে আসছিলেন।

বিজ্ঞাপন

উপদেষ্টা বন্দর ভবনের ভেতরে ঢোকার সময় শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। ছবি: সারাবাংলা

নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরে আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শত, শত শ্রমিক-কর্মচারী চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের অদূরে ৪ নম্বর জেটিগেট থেকে কাস্টমস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা সকাল থেকেই অন্যান্যদিনের চেয়ে বাড়তি কঠোর অবস্থানে আছেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টার গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছানোর সাথে সাথেই আশপাশে থেকে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা বেরিয়ে আসেন। তারা স্লোগান দিতে দিতে গাড়িবহর আটকে দেন। এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ভুয়া ভুয়া, দালাল দালাল বলে স্লোগান দেন।

প্রায় ১৫ মিনিট আটকে থাকার পর পুলিশ চারপাশে নিরাপত্তা বেস্টনী তৈরি করে গাড়িগুলোকে বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়। গাড়ি মূলফটক দিয়ে বন্দর ভবনে প্রবেশের সাথে সাথেই নিরাপত্তারক্ষীরা সেটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ছবি: সারাবাংলা

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বন্দর ভবনের নিচে গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে প্রবেশের সময় শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। তখন উপদেষ্টাকে পুলিশও বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দ্রুত বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে লিফটে ওপরে উঠতে দেখা যায়।

বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে আজ বৃহস্পতিবারও
পুরোপুরি বন্ধ আছে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেটিতে আটকে আছে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজ।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন দমাতে হয়রানি, দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়।

এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিসহ সব জেটিতে অপারেশাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ আছে। ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার ও পণ্য খালাস হচ্ছে না। ১৯টি অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ আছে।

গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তৃতীয়দিনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। তিনদিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। এর ফলে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে।

এ অবস্থায় সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।

বদলি-হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বিজ্ঞাপন

আজ বায়ু দূষণে বিশ্বে দ্বিতীয় ঢাকা
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৯

যশোরে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মারুফ আটক
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২০

আরো

সম্পর্কিত খবর