ঢাকা: দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের জন্য একদমই নতুন একটি অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় গণভোট’। সাধারণ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সবার স্পষ্ট ধারণা থাকলেও, গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মনেই কাজ করছে কৌতূহল।
বৃৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে জেনে নিন গণভোটের আদ্যোপান্ত।
গণভোট কী
সহজ কথায়, গণভোট হলো সরাসরি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কোনো জাতীয় সিদ্ধান্তের বৈধতা নিশ্চিত করা। সংসদ নির্বাচনে যেমন বিভিন্ন দলের ‘প্রার্থী’ থাকে, গণভোটে তেমন কোনো প্রার্থী থাকে না। এখানে ব্যালট পেপারে থাকা নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবের পক্ষে (হ্যাঁ) অথবা বিপক্ষে (না) ভোট দিতে হয়।
গণভোট কেন
সংবিধান সংস্কার: দেশের মূল আইন বা সংবিধানে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে জনগণের সরাসরি অনুমতি নেওয়া।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত: গুরুত্বপূর্ণ কোনো জাতীয় ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের রায় নেওয়া।
গণতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে সাধারণ নাগরিকের মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া।
ব্যালট পেপার ও ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম
ভোটের দিন কেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রতিটি ভোটারকে দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে:
১. সাদা ব্যালট (সংসদ নির্বাচন): এই ব্যালটে আপনার এলাকার এমপি প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক থাকবে। আপনি পছন্দের প্রতীকে সিল দেবেন।
২. গোলাপি ব্যালট (গণভোট): এই ব্যালটটি সংরক্ষিত থাকবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর প্রস্তাবগুলোর জন্য।
ভোট যেভাবে দেবেন
* প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে একমত হলে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নিত ঘরে সিল দেবেন (বা টিক চিহ্ন দিবেন)।
* একমত না হলে ‘না’ চিহ্নিত ঘরে সিল দেবেন (বা ক্রস চিহ্ন দিবেন)।
* সিল মারার পর দুটি ব্যালট পেপারই একই স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে জমা দিতে হবে।
ব্যালট পেপারে যা থাকছে: ‘জুলাই জাতীয় সনদ’
ব্যালট পেপারে একটি প্রশ্ন থাকবে: “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে নিম্নলিখিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”
সনদের প্রধান ৪টি দিক:
* নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গঠন: জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন।
* দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ: ১০০ সদস্যের একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।
* ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন।
* রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা: তফসিলে বর্ণিত ৩০টি সংস্কারসহ অপরাপর সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আইনত বাধ্য করা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।