ঢাকা: দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছেন সাতজন নারী প্রার্থী। এবার ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৮১ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের সাফল্যের হার বেশ ইতিবাচক। শতাংশের হিসেবে নারী প্রার্থীদের ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ জনগণের সরাসরি রায়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
জয়ী নারী এমপিদের তালিকা ও ফলাফল:
ভোটে জয়ী নারীদের মধ্যে বিএনপি জোট মনোনীত ৬ জন ও একজন স্বতন্ত্র প্রাথী। নির্বাচনি জয়ী স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী রুমিন ফারহানাও যুক্ত ছিলেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট মনোনীত জমিয়তে উলামায়ের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।
নারী প্রার্থীদের মধ্যে, মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের ৮ ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম নির্বাচিত হয়েছেন। আফরোজা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।
ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত এ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিজয়ী হয়েছে ‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা)। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীয়ত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।
নাটোর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট।
ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আকরাম আলী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট।
ফরিদপুর–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরেক নারী প্রার্থী ও প্রয়াত বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুত তাওয়াব।
প্রার্থীদের প্রোফাইল ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ সংখ্যায় কম হলেও গুণগত মানে তারা বেশ অগ্রগামী-
উচ্চশিক্ষা: নারী প্রার্থীদের ৭৫ শতাংশই (৬৪ জন) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।
পেশা: প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী প্রার্থী সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বা কর্মজীবী।
বয়স: সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ছিলেন ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী তরুণী (৩২ জন)।
সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ
সরাসরি ভোটে জয়ী হওয়া এই সাত নারী প্রার্থীর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে রুমিন ফারহানার জয়টি বিশেষভাবে আলোচিত। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেও তিনি বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীকে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এ ছাড়া সিলেট-২ আসনে গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং ফরিদপুর-৩ আসনে প্রয়াত নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফের জয়ও উল্লেখযোগ্য।