ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ মার্চের টিকিট বিক্রি হচ্ছে আজ (৩ মার্চ), ১৪ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ৪ মার্চ, ১৫ মার্চের টিকিট ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট ৬ মার্চ, ১৭ মার্চের টিকিট ৭ মার্চ, ১৮ মার্চের টিকিট ৮ মার্চ এবং ১৯ মার্চের টিকিট ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে। আর চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
প্রথম দিন ১৩ মার্চের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে। আর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ। একজন যাত্রী অগ্রিম যাত্রা ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার করে টিকিট কিনতে পারবেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। ঈদে অগ্রিম ও ফেরতযাত্রার টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না।
এদিকে ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বাতিল করা হয়েছে।
যেভাবে কাটবেন টিকেট
রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ঢুকে যাত্রীরা ঘরে বসে টিকিট কিনতে পারবেন। এ জন্য আগে একবার নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আগে থেকে নিবন্ধন করা থাকলে সরাসরি লগইন করেই টিকিট কাটা যাবে।
রেজিস্ট্রেশন করতে হলে https://eticket.railway.gov.bd/ ঠিকানায় প্রবেশ করে উপরের ডান পাশে থাকা ‘রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে ‘ভেরিফাই’ বাটনে চাপ দিলে মোবাইলে একটি ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে লগইন হয়ে যাবে।
টিকিট কিনতে লগইন করার পর ভ্রমণের তারিখ, যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্য ও শ্রেণি নির্বাচন করে ‘ফাইন্ড টিকিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তখন নির্ধারিত তারিখের ট্রেনের তালিকা, আসন খালি আছে কি না এবং ছাড়ার সময় দেখা যাবে। পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করে ‘ভিউ সিটস’–এ ক্লিক করলে খালি আসন দেখাবে। সেখান থেকে আসন বেছে নিয়ে ‘কন্টিনিউ পারচেজ’ অপশনে যেতে হবে। এরপর আবার একটি ওটিপি মোবাইলে পাঠানো হবে, সেটি দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।
সবশেষে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। একইসঙ্গে নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় টিকিটের কপি পাঠানো হবে। ডাউনলোড করা পিডিএফ টিকিট মোবাইলে দেখিয়েই ভ্রমণ করা যাবে। চাইলে ই-মেইল থেকে প্রিন্ট কপি নিয়ে ফটো আইডিসহ সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকেও ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।