ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘এই জাতীয় শক্তি যেন (জামায়াত) মেইনস্ট্রিম না হতে পারে, আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি, তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দেই নাই।’ তার সেই বক্তব্যের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি রেজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্যের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে। জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে তারা কিভাবে এ কাজটি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা একজন রাজসাক্ষি পেয়েছি, তার নাম হচ্ছে অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা হাসান। তিনি একজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এটা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায় আমরা যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকার দিতে পারি নাই, তারা বিরোধীদলে থাকলেও তাদেরকে মূল ধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেইনি। তাহলে বোঝা যায়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কথা আসছিল সেটাকে উনি নিজে স্বীকার করে রাজসাক্ষি হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আজকের সরকারের কাছে জানতে চাই, তারা যোগসাজসে কি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে তারা বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপদেষ্টার কাছে এটাও জানতে চাই, এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উনার সঙ্গে পুরো সরকার ছিল, নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ ছিল? যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে, এটাও জানতে চাই। তাদের ডিজাইন অনুসারে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, প্রিজাইডিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করে তাদের কাঙ্খিত সংখ্যায় একটি দলকে জিতানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এটা জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে।
ডা. তাহের বলেন, আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব রেজওয়ানা হাসানকে তারা কিভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন। জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে তার কাছ থেকে পরিষ্কার, যে সিচুয়েশন তিনি তেরী করেছিলেন সে সম্পর্কে ওনারা জানবেন। আমাদেরকে জানাবেন, দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে কয়েকজন উপদেষ্টার বিষয়ে অভিযোগ এনেছিলাম। অন্তবর্তী সরকার বলার চেষ্টা করেছিল তারা নিরপেক্ষ। নীতিগত একটা কথা ছিল, যারা অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকছেন তারা দলীয় সরকারে অংশ নেবেন না, মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করবেন না। কিন্তু প্রথম দিনই খলিলুর রহমান সাহেব পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। যেটা তিনি তার আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন। এখানে স্পষ্ট খলিলুর রহমান ছিল লন্ডন কন্সপিরেসির প্রধান হোতা। সেখান থেকে তিনি সরকারকে ষড়যন্ত্র করে মোটিভেট করে বর্তমান যারা সরকারে আছেন, তাদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করেছিলেন। তার সেই কাজের পুরুষ্কার হিসেবেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি উপহার পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ অন্যান্যরা।