যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে বড় বোমাবর্ষণ আজ রাতে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে ইরান এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বেসেন্ট বলেন, ‘আজ রাতেই আমাদের সবচেয়ে বড় বোমাবর্ষণ অভিযান হবে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হবে। আমরা তাদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছি।’
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী হামলার মুখে সামরিক ক্ষেত্রে সফল হতে না পেরে ইরান এখন অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আমি মনে করি না তারা এতে সফল হবে।
এদিকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন জাহাজগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বেসেন্ট।
তিনি জানান, সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিমা কোম্পানিগুলো হরমুজ প্রণালী বা উপসাগরীয় অঞ্চলে যাতায়াতকারী জাহাজের বিমা বাতিল করে দেয়। এতে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন বুধবার (৪ মার্চ) ঘোষণা দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিমা সহায়তা দেবে।
তিনি আরও জানান, ইরান দাবি করেছে হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে, তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে তারা সেখানে চলাচলের অনুমতি দেবে না। ইরানি ও চীনা জাহাজগুলোকে এই সংঘাতের মধ্যেও সফলভাবে ওই পথ দিয়ে যেতে দেখা গেছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।