ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না- সে বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১১ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এদিন মামলায় আসামিপক্ষের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। শুনানিতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের পক্ষে তাদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে আবেদন করেন।
এর আগে গত ২ মার্চ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য ৩০ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন। ওই দিনই জানা যাবে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে কি না।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্য আইনজীবীরা ছিলেন।
মামলায় কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও কারফিউ জারির প্ররোচনাসহ ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। এর ফলে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটে।
এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন কামরুল ইসলাম। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তারা কারাগারে রয়েছেন।