Thursday 12 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তুরস্কে রোগীদের জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৭

গ্রেফতার ৫ সদস্য।

ঢাকা: তুরস্কে কিডনি প্রতিস্থাপনসহ বাংলাদেশি বিভিন্ন রোগীদের পাঠিয়ে সে দেশে জিম্মি করে বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৫ সদস্যদের গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। এমনকি প্রতারণার শিকার হয়ে তুরস্কে কয়েকজন কারাবাসও করছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-৪ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি এসব জানান।

তিনি বলেন, গ্রেফতাররা তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান টার্কিশডগ এর ওয়েবসাইট নকল করে টার্কিশ ডগ বিডি নামক ওয়েবসাইট খুলে তুরস্কে কিডনি প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন রোগীদের পাঠিয়ে সে দেশে জিম্মি করে বিশাল অংকের অর্থ আদায় করত। এই ঘটনায় নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), মাসুম বিল্লাহ (৪৩), মোহাম্মদ তরিকুল (৩০), সালমান ফারসি (৩৫) ও ওয়ালিদ মিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোম্পানি কমান্ডার বলেন, গত কয়েকদিন আগে নিরব নজরুল লিখন আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন যে তিনি এই চক্রের মাধ্যমে তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তুরস্কে গিয়ে চিকিৎসা না পাওয়াসহ বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি শ্যামপুর থানায় একটি মামলা রুজু করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে।

তিনি বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মামলার বাদী নিরব নজরুল লিখন একজন ব্যবসায়ী। তার মা একজন কিডনি রোগী। তিনি তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসার জন্য দেলোয়ারের মাধ্যমে এই চক্রের সাথে পরিচিত হন। তারা জানায় তারা তুরস্কের টার্কিশডক নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এজেন্ট এবং তারা ওকান হাসপাতেলের মাধ্যমে ২৩ হাজার ডলারের (প্রায় ৩০ লাখ টাকা) বিনিময়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করে থাকে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে এ চক্রের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিবদ্ধ হন। সে মোতাবেক গত নভেম্বর মাসে দেশে নগদ ৫ লাখ টাকা দেন। এছাড়াও বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়নে আরও দুই লাখ টাকা দেন।

কে এন রায় নিয়তি বলেন, পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভুক্তভোগীরা তুরস্কে যান এবং সেখানে টার্কিশডক এর এজেন্ট পরিচয়দানকারী টার্কিশ ব্যক্তি তাদেরকে রিসিভ করে ওকান হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। ভর্তি হওয়ার পরে কিডনি ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত ২৩ হাজার ডলার প্রদানে বাধ্য করাসহ আরও অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার প্রায় সর্বমোট প্রায় অর্ধকোটি টাকার উপরে দিতে বাধ্য করেন। এই টাকা দেওয়ার পরেও চক্রের সদস্যরা তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে জানান যে ভুক্তভোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাবে না এবং তাকে দেশে ফেরত আসতে বলেন, না হলে সেখানকার পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করবে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা দেশে ফেরত আসে এবং এ চক্রের সদস্যদের কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়-ভীতি দেখায়।

তিনি বলেন, বাদীর মায়ের একদিন পরপর কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। যেহেতু বিবাদীদের সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্ট ছিল কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের, কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তার মায়ের ইমিডিয়েট ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়। তখন তারা অতিরিক্তি ৫ হাজার ডলার দাবি করে এবং বাদীর মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তৎক্ষণাৎ টাকা দিতে বাধ্য হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ডকুমেন্ট ইন্টারপ্রেট করার জন্য আরও ৬ হাজার ডলার নেয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান টার্কিশডগ এর ওয়েবসাইট অবিকল নকল করে টার্কিশ ডগ বিডি নামক ওয়েবসাইট খুলে। তারা কিডনি প্রতিস্থাপন, আইভিএফসহ বিভিন্ন রোগীদের তুরস্কে পাঠিয়ে সে দেশে জিম্মি করে বিশাল অঙ্ককের অর্থ আদায় করে আসছিল। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি ওই চক্রের মাধ্যমে সে দেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকজন কারাবাস করছে। আমাদের কাছে এই প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে এরকম আরো কয়েকটি রিপোর্ট এসেছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর