ফরিদপুর: ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী আহাদ শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আহাদ শেখ জেলার সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের মৃত বাদশা শেখের ছেলে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আসামি আহাদ শেখ বিদেশে যাবে বলে স্ত্রী রুবাইয়া বেগমকে বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে শারীরিক ও মানসিক চাপ দিতে থাকে। অবশেষে বাধ্য হয়ে ২ লাখ টাকা জোগাড় করে দেওয়ার জন্য রুবাইয়া বেগমের বাবার বাড়ি থেকে রাজি হয়।
এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আসামি আহাদ রুবাইয়া বেগমের বাড়িতে ফোন করে জানায় রুবিয়া অসুস্থ। তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছি। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তাদের কাউকে না পেয়ে ফোন দিলে আহাদের নম্বর বন্ধ পায়। পরে জরুরি বিভাগে মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার বাবা।
পরে জানা যায়, মেয়েটির স্বামী তাকে মারধর হত্যা করে মুখের মধ্যে বিষ ঢেলে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে সালথা থানায় নিহতের রুবিয়ার স্বামীসহ ৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘস্বাক্ষ্য প্রমান শেষে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন ও বাকী ২ জনকে খালাস দেয় আদালত।