ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একের পর এক নির্বাচনি আবেদন জমা পড়ছে। ভোটে কারচুপি, অনিয়ম ও ফলাফল বিকৃতির অভিযোগ তুলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬টি নির্বাচনি আবেদন হাইকোর্টে করা হয়েছে।
আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার সাংবিধানিক সুযোগ থাকায় পরাজিত প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এসব আবেদনে ভোটগ্রহণে অনিয়ম, ভোট গণনায় অসঙ্গতি, কেন্দ্র দখল এবং ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে পুনর্গণনা বা নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার, ফলাফল শিটসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। যাতে মামলার শুনানির সময় প্রয়োজন হলে সেগুলো যাচাই করা যায়।
যেসব আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করা হয়েছে তার মধ্যে রাজধানীর কয়েকটি আসন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার আসন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৬, মাদারীপুর-১, পিরোজপুর-২ সহ আরও কয়েকটি আসন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, নির্বাচনের পর আদালতে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা নতুন কিছু নয়। তবে এবারের নির্বাচনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তারা বলছেন, এসব মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্ট এসব আবেদনের প্রাথমিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে পর্যায়ক্রমে শুনানি করবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে, যার মধ্যে পুনরায় ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফল বাতিলের মতো সিদ্ধান্তও থাকতে পারে।