ঢাকা: দেশের বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের প্রস্তাবিত কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিবেশকদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সম্প্রতি দেওয়া এ আদেশের আগে গত ৯ মার্চ এ বিষয়ে রুল জারি করা হয়। অগ্রণী ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড এবং মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে দীর্ঘদিনের দুই পরিবেশকের করা দেওয়ানি রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের ২৯ জানুয়ারির আদেশ কেন বাতিল করা হবে না। সে বিষয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শাতে বলেছেন। একই সঙ্গে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ভেক্টর এন্টারপ্রাইজের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ভেক্টর এন্টারপ্রাইজের পরিবেশক হিসেবে নিয়োগ কার্যত আপাতত বন্ধ থাকছে।
রুল চলাকালীন সময়ে অগ্রণী ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড ও মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী তাদের পরিবেশক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
মামলার প্রেক্ষিতে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অভিযোগের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাহারুল ইসলাম মোল্লা ও অর্থ পরিচালক জিনিয়া হকের নামও উল্লেখ রয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে দুই পরিবেশকের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি কার্যক্রমের পর ঢাকার একটি আদালত কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। এছাড়া মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের করা একটি জালিয়াতি মামলায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ইউনিলিভার বাংলাদেশের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়।
এর আগে ডিস্ট্রিবিউটরশিপ সংক্রান্ত আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হয়েছিল।
এদিকে হাইকোর্টের এ আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে অগ্রণী ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড ও মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত তাদের ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
তারা আরও জানায়, আইনসম্মত উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে এফএমসিজি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।