ইবি: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বিরোধী ভূমিকায় থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক সিন্ডিকেট সদস্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শাস্তি প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত ৩৩ শিক্ষার্থীর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত আগামী ২৪ মার্চ ক্যাম্পাস খোলার পর রেজুলেশন আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর নেতৃত্বে শাস্তি নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল।
জানা গেছে, জুলাই-আগস্ট বিপ্লব বিরোধীদের শনাক্ত করতে গত বছরের ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। তবে সময় বাড়িয়ে ১৩ আগস্ট তারা উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে ১৯ জন শিক্ষক, ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৩৩ শিক্ষার্থীর (ছাত্রলীগের নেতাকর্মী) নাম উল্লেখ করে তাদের শাস্তির সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ আগস্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরে এই প্রতিবেদনের আলোকে গত ৩০ অক্টোবর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মধ্যে নিয়মিতদের বহিষ্কার ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া ব্যক্তিদের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। তাদের শাস্তি নির্ধারণে রিভিউ কমিটি গঠনে উপাচার্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১৯ নভেম্বর সাত সদস্যের একটি রিভিউ কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
পরে রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন জমা দিলে, সেই প্রতিবেদনের ওপর মতামত প্রদানের জন্য গত ৩০ জানুয়ারি ২৭২তম সিন্ডিকেট সভায় একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে মোতাবেক এক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, অভিযুক্তদের বক্তব্য, রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে নিজের মতামত দেন।
সূত্র জানায়, ওই বিচারপতি তদন্ত কমিটি বা রিভিউ কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী বিধি অনুযায়ী কাজ না করায় তাদের প্রস্তাবিত ও সুপারিশকৃত শাস্তি বাস্তবায়ন আইন সম্মত হবে না এবং শাস্তি প্রদান করা হলেও তা আদালতে বহাল রাখা সম্ভব হবে না বলে মতামত দেন। পাশাপাশি, কারণ দর্শানোর জবাবের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদেরকে ভবিষ্যতে সকল সম্ভাব্য বিরোধ এড়িয়ে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদানের পরামর্শ দেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার জরুরি সিন্ডিকেটে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।