ঢাকা: আসন্ন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কঠোর অবস্থানে সরকার। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্ণ সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি, পক্ষপাতিত্ব বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই কাজে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে।
নির্বাচনি কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’-এর কঠোর প্রয়োগের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে সরকার। পরিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, উক্ত আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কর্মকর্তাদের চাকরি এবং ৫ ধারা অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক কঠোর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে। সেসঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক বা অন্য যেকোনো ব্যক্তি আইনের ২(ঘ) ধারা অনুযায়ী ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন।
দায়িত্ব পালনকালীন তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন। এক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও কমিশনের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পরিপত্রে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কমিশন কোনো নির্দেশনা প্রদান করলে তা পালনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কর্মচারীরা বাধ্য থাকবেন। নির্বাচনি দায়িত্বে অনীহা, অসহযোগিতা, তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য প্রদানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।