চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ছত্রপাড়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অস্ত্রের আঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছে। অপরদিকে, সংঘর্ষের খবরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আরেক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরের পর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় ওই গ্রামের মরহুম ইংরেজ আলী কাজীর ছেলে নাজিম উদ্দিন কাজী (৭০) ও সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রাঘাতে মারাত্বক আহত একই গ্রামের লাবু হোসেন কাজীর ছেলে শিমুল হোসেন কাজী (২০) কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যায়। সংঘর্ষে আহত একই গ্রামের মরহুম আফিল কাজীর ছেলে কুবির কাজীকে (৩৫) কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনী ইসরাইল জানান, ওই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকাতে অবস্থান করার সময় তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। হৃদয় গ্রামে ফিরে আসলে এ বিষয়টি নিয়ে একই গ্রামের মাহাবুলের ছেলে আব্দুল্লার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হয়। পরে পালটা হামলায় আব্দুল্লার মা আলেয়া বেগম, জামায়াত কর্মী তরিকুল ও শরিফুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটে।
ওসি আরও জানান, পরবর্তীতে এ সংঘর্ষ বিএনপির নেতাকর্মী হান্নান-কুবির ও লাল খাঁ- জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির ও শিমুল গুরুতর আহত হয়। এ সংঘর্ষের খবর শুনে বৃদ্ধ নাজিম উদ্দিন কাজী লাঠিতে ভর করে বাড়ির বাইরে বের হয়ে পড়ে গিয়ে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় বলে দাবি করছে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
বনী ইসরাইল আরও জানান, বর্তমানে ছত্রপাড়ার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।