Friday 27 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে স্বস্তি, কমেছে মাছ ও মুরগির দাম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৫

ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে নগরবাসী। ঈদের আগে যেভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল বর্তমানে বাজারে তা আর নেই। মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সবজির বাজারে কিছুটা চড়া ভাব এখন দেখা গেছে। মূলত সবজির বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে ঈদের আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল ব্রয়লার মুরগির দাম। তবে ঈদের পরে ফের কমেছে মুরগির দাম। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্য বিত্তদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এসেছে।

রাজধানীর কাওরানবাজার, মুগদা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, যাত্রাবাড়ী, হাতিরপুল, ঝিগাতলাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে ঈদের পরে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। ঈদের আগে যা বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকার ওপরে। অন্যদিকে লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগি ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের এই মুরগিগুলোতে কেজি প্রতি অন্তত ২০ টাকা বেশি ছিল। আর দেশি মুরগি আকারভেদে ৫৫০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে দেশি মুরগির কেজি ছিল ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা করে।

বিজ্ঞাপন

মাংসের দোকানে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৮৮০ টাকা করে। কোনো কোনো জায়গায় ৯০০ টাকা কেজি করে বিক্রি হয়েছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজি। আগে ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আর এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। ঈদের আগে এটির ডজন ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর এখনো সেভাবে জমে ওঠেনি রাজধানীর সবজির বাজার। ঈদের ছুটি শেষে এখনো অনেকে ঢাকায় এসে না পৌঁছানোর কারণে বিক্রি অনেকটাই কম বলে জানাচ্ছেন তারা। সেই সঙ্গে ঈদের ছুটির কারণে সরবরাহ কম থাকা এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে দামে প্রভাব পড়েছে।

সবজির বাজারে দেখা গেছে, কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। ঈদের আগে ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেগুনের কেজি ৬০ টাকায়, আগে ছিল ৫০ টাকা। পটলের কেজি এখন ৫০ টাকা, আগে পটল মোটামুটি একই দামে বিক্রি হচ্ছে। করলা ও বরবটি স্থানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। গাজর ৫০ টাকায়, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজিতে। জালি কুমড়া প্রতি পিস (সাইজের উপর দাম নির্ভর) ৪০-৫০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতিটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সজনে ডাঁটা এখন ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝড়ের কারণে বাজারে সজনে ডাঁটা সরবরাহ বেড়েছে, যার কারণে এখন কিছুটা দাম কমেছে। ঈদের আগে সজনে ডাঁটা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া দেশি ধনেপাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লালশাক আঁটি ১০-১৫ টাকা, লাউশাক আঁটি ২০-৩০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালংশাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে আলুর দাম বাড়লেও পেঁয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। আলু কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে আলু বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা কেজিতে। এখন সরবরাহ কিছুটা কমেছে সেই কারণে দর বেড়েছে।

মাছের বাজারে দেখা গেছে, রুই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি (সাইজের উপর দামের তারতম্য) ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, কাতলা ৩৪০ থেকে ৪৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৪০ টাকা এবং শিং ও মাগুর চাষেরটা ৩৫০-৪৫০ টাকা এবং দেশিটা ৭৫০-৮৫০ টাকা। সব ধরনের মাছেই কেজিতে ২০ টাকা থেকে অন্তত ৫০ টাকা কমেছে।

চাষের কই ২৪০-২৮০ টাকা এবং দেশি কই ৭৫০-৮৫০ টাকা আর বোয়াল ও চিতল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায়। আগে দেশি কই মাছের কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে নদীর দেশি ছোট মাঝারি চিংড়ি ৮৫০-১২০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, মলা মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩৩০-৪৫০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৬৫০-৮৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পর চাহিদা কমার কারণেই সব ধরনের মাছেই কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

সারাবাংলা/একে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর