গাইবান্ধা: ঈদের আনন্দ, বিয়ের সাজ, হাসি-খুশির কোলাহল সবকিছু যেন একসঙ্গে মিশে ছিল গাইবান্ধার নিজপাড়া গ্রামের দোলা বেগমের ঘরে। কয়েকদিন আগেও যে উঠোন সাজানো হয়েছিল, যেখানে বাজছিল বিয়ের গান। সেই উঠোনেই এখন শোকের ছায়া, কান্নার শব্দ আর নিথর এক বাস্তবতা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী দোলা বেগম ও নার্গিস বেগমও ছিলেন, তারা সম্পর্কে বেয়াইন।
পরিবার জানায়, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করা দোলা বেগম ও নার্গিস বেগম এসেছিলেন ঈদের ছুটিতে। সঙ্গে ছিল একটাই স্বপ্ন নিজের একমাত্র ছেলে- মেয়ের বিয়ে দেওয়া। মায়ের হৃদয়ে যতটুকু স্নেহ, যতটুকু আশা থাকে, সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলেন মেয়ের নতুন জীবনের শুরুতে। ঘর ভর্তি অতিথি, আত্মীয়-স্বজন, হাসি আর শুভকামনায় মুখর ছিল পরিবেশ।
বিয়ের দুইদিন পরও ঘরে ছিল সেই আনন্দের রেশ। নতুন জামাই, নতুন সংসার, আর মেয়ের মুখের হাসি সব মিলিয়ে যেন পূর্ণতা পেয়েছিল দুই মায়ের জীবন। কিন্তু কে জানত, সেই হাসির আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর পরিণতি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে দোলা বেগম ও নার্গিস বেগমের মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়, তখন যেন পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে যায়। যে বাড়িতে কিছুদিন আগেও বিয়ের সাজসজ্জা ছিল, সেই বাড়িতেই আজ কফিন। নতুন বউ জুই আক্তার নিজের পরিবারের তিন সদস্যের হারিয়ে পাগল প্রায়। মায়ের নিথর মুখ দেখে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহাদত হোসেন জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে একই কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও জানান দুর্ঘটনায় একসাথে এতো মৃত্যুর সাক্ষী আমাদের গ্রাম কখনো হয়নি তাই আমরা সবাই এ ঘটনায় শোকার্ত।