ঢাকা: বিশ্বের জনবহুল মেগাসিটিগুলোতে বায়ুদূষণ এখন এক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই সমস্যা যেন দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লি বর্তমানে ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩৩০ স্কোর নিয়ে দিল্লি বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। দিল্লির এই পরিস্থিতিকে পরিবেশবিদরা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম এক ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে দেখছেন। সেখানে বাতাসের মান এতটাই নিচে নেমে গেছে যে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করাও সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
দিল্লির এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চিত্রও মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। দীর্ঘ সময় ধরেই ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকায় নিজের নাম ধরে রেখেছে। আজকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা ১৪৭ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। যদিও দিল্লির তুলনায় ঢাকার অবস্থান কিছুটা নিচে, তবুও ঢাকার এই বায়ুমানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন কিংবা শিশু এবং বয়স্ক মানুষ রয়েছেন, তাদের জন্য এই বাতাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শহরজুড়ে অব্যবস্থাপনা, নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর ধূলিকণা এবং যানবাহনের ধোঁয়া ঢাকার বাতাসকে দিন দিন আরও বিষাক্ত করে তুলছে।
দূষণের এই তালিকায় দিল্লির পরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সেনেগালের রাজধানী ডাকার এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এছাড়াও নেপালের কাঠমান্ডু ও থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। বায়ুমান সূচক বা একিউআই অনুযায়ী, যখন কোনো শহরের স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আর যদি এই স্কোর ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তবে তা সরাসরি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। দিল্লির বর্তমান স্কোর সেই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করে গেছে, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি দিল্লির মতোই ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। যদিও গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে ঢাকার বাতাসের মানে কিছুটা হেরফের হয়েছিল, তবে তা স্থায়ী কোনো সমাধান নিয়ে আসতে পারেনি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং তার কঠোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। নতুবা ধূলিকণা আর ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা এই শহরটি অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। বায়ুর মান উন্নয়নের জন্য কলকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।